KIEI – কুন্ডু ইন্ট্রোভার্সন এন্ড এক্সটোভার্সন ইনভেন্টরি | Kundu Introversion and Extroversion Inventory

ব্যক্তিত্ব পরিমাপের পদ্ধতির মধ্যে কুন্ডু ইন্ট্রোভার্সন এন্ড এক্সটোভার্সন ইনভেন্টরি (Kundu Introversion and Extroversion Inventory) বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে কিভাবে একজন ব্যক্তির অন্তর্মুখি ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব পরিমাপ করবে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

Index

KIEI – কুন্ডু ইন্ট্রোভার্সন এন্ড এক্সটোভার্সন ইনভেন্টরি | Kundu Introversion and Extroversion Inventory

ব্যক্তিত্ব (Personality) শব্দটি ল্যাটিন ‘Persona’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো থিয়েটারে ব্যবহৃত মুখোশ (Mask)। তবে আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ব্যক্তিত্ব বলতে কোনো ছদ্মবেশী সত্তাকে বোঝানো হয় না; বরং ব্যক্তির স্বতন্ত্র ও সুসংগঠিত মানসিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের সমষ্টিকে বোঝানো হয়।

মনোবিজ্ঞানী Gordon Allport-এর মতে, ব্যক্তিত্ব হলো ব্যক্তির মধ্যে অবস্থিত সেই গতিশীল মনোদৈহিক সংগঠন (Dynamic Organization of Psychophysical Systems), যা তার পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন এবং স্বতন্ত্র আচরণকে প্রভাবিত করে।

ব্যক্তিত্বের গঠনে বিভিন্ন ধরনের উপাদান কাজ করে। এর মধ্যে বংশগত প্রভাব, জৈবিক উপাদান, দৈহিক গঠন, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির প্রভাব, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপ, সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং ব্যক্তির জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। এই উপাদানগুলির পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তির স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

ব্যক্তিত্ব পরিমাপের জন্য মনোবিজ্ঞানে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিত্ব ইনভেন্টরির মাধ্যমে ব্যক্তির নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে কাঠামোবদ্ধ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। মনোবিজ্ঞানী রমানাথ কুন্ডু ব্যক্তিত্ব পরিমাপের দুটি পদ্ধতি প্রবর্তন করেন, যথা –

প্রশ্ন – একজন ব্যক্তির উপর KIEI প্রয়োগ পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ ও প্রদত্ত KIEI-এর উত্তরপত্রের অভিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করার পর সেগুলি স্কোর নির্ধারণ করো এবং ফলাফলের ব্যাখ্যা দাও।

সমস্যা – একজন ব্যক্তির উপর KIEI প্রয়োগ পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ ও প্রদত্ত KIEI -এর উত্তরপত্রের অভিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করার পর সেগুলি স্কোর নির্ধারণ এবং ফলাফলের ব্যাখ্যা বিস্তারিত আলোচনা করা হল –

মৌলিক ধারণা (Basic Concept)

ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো ব্যক্তির সামাজিক আচরণ, আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক এবং পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ধরন। কেউ সাধারণত সামাজিক পরিবেশে সক্রিয়, কথাবার্তায় আগ্রহী ও বহির্মুখী আচরণ প্রদর্শন করেন, আবার কেউ অপেক্ষাকৃত শান্ত, সংযত এবং নিজের চিন্তা ও অনুভূতির মধ্যে বেশি মনোনিবেশ করেন।

ব্যক্তিত্বের এই দুই ধরনের প্রবণতাকে যথাক্রমে বলা হয় –

  • Extroversion (বহির্মুখিতা) এবং
  • Introversion (অন্তর্মুখিতা) ।

এই প্রবণতা পরিমাপের উদ্দেশ্যে Kundu Introversion and Extroversion Inventory (KIEI) একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব পরিমাপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

KIEI (Kundu Introversion-Extraversion Inventory) হল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের অন্তর্মুখিতা (Introversion) ও বহির্মুখিতা (Extraversion)-এর মাত্রা পরিমাপের একটি আত্মনির্ভর বা স্ব-প্রতিবেদনমূলক (Self-report) কৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে ব্যক্তির সামাজিক আচরণ, মেলামেশার প্রবণতা, একাকীত্ব পছন্দ এবং সামাজিক সক্রিয়তার মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এটি ব্যক্তির অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী প্রবণতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

মনোবিজ্ঞানে ১৯১০ সালে সুইস মনোবিদ কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং (Carl Gustav Jung) অন্তর্মুখিতা (Introversion) ও বহির্মুখিতা (Extraversion) ধারণার ব্যাখ্যা দেন। তাঁর মতে, অন্তর্মুখিতা ও বহির্মুখিতা পরস্পরের বিপরীত বৈশিষ্ট্য হলেও এগুলি কোনো বিচ্ছিন্ন শ্রেণি নয়; বরং একটি ধারাবাহিক স্কেলের দুই প্রান্তে অবস্থান করে। অধিকাংশ ব্যক্তি এই দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী কোনো অবস্থানে থাকেন।

ব্যক্তির আচরণ ও সামাজিক প্রবণতার ভিত্তিতে তাঁদের প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়— অন্তর্মুখী (Introvert), বহির্মুখী (Extravert) এবং উভমুখী (Ambivert)।

১. অন্তর্মুখী (Introvert)

অন্তর্মুখী ব্যক্তিরা সাধারণত নিজের চিন্তা, অনুভূতি ও অভ্যন্তরীণ জগতের প্রতি বেশি মনোযোগী হন। তাঁরা একাকী বা অল্পসংখ্যক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং সহজে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চান না। অন্তর্মুখী ব্যক্তিদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

  • অল্পসংখ্যক ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলামেশা করতে পছন্দ করা।
  • চিন্তাশীল ও আত্মমগ্ন প্রকৃতির হওয়া।
  • একাকী থাকার মাধ্যমে মানসিকভাবে উজ্জীবিত হওয়া।
  • নির্জনতা ও শান্ত পরিবেশ পছন্দ করা।
  • নিজের আবেগ ও অনুভূতি সহজে প্রকাশ না করে গোপন রাখার প্রবণতা থাকা।
  • বড় দল বা অপরিচিত ব্যক্তিদের সামনে তুলনামূলকভাবে চুপচাপ ও গম্ভীর থাকা।
  • সাধারণত স্বল্পভাষী হওয়া এবং বেশি কথা বলার পরিবর্তে শোনাকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • পর্যবেক্ষণ ও চিন্তার মাধ্যমে বিষয় ভালোভাবে শেখার প্রবণতা থাকা।
  • অতিরিক্ত উত্তেজনাপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী হওয়া।
  • কোনো পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণের আগে সতর্কভাবে তা বিশ্লেষণ করা।

২. বহির্মুখী (Extravert)

বহির্মুখী ব্যক্তিরা সাধারণত সামাজিক পরিবেশ ও অন্য মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় বেশি সক্রিয় হন। তাঁরা মানুষের সান্নিধ্য, দলগত কার্যকলাপ এবং নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন। বহির্মুখী ব্যক্তিদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

  • অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গ ও সামাজিক পরিবেশ পছন্দ করা।
  • একাধিক বন্ধুবান্ধব তৈরি করতে আগ্রহী হওয়া।
  • অন্য মানুষের সঙ্গে থাকার মাধ্যমে মানসিকভাবে উজ্জীবিত হওয়া।
  • দলগত কাজ ও সামাজিক কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।
  • লেখার তুলনায় কথা বলে নিজের ভাব প্রকাশ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা।
  • নতুনত্ব, পরিবর্তন ও উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা পছন্দ করা।
  • সহজে অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে পারা বা মিশুক প্রকৃতির হওয়া।
  • সামাজিক পরিবেশে নিজের প্রতি অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে আগ্রহী হওয়া।
  • সমবয়সী ও পরিচিত মহলে সহজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা।
  • সামাজিক পরিস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।

৩. উভমুখী (Ambivert)

উভমুখী ব্যক্তিরা অন্তর্মুখিতা ও বহির্মুখিতার ধারাবাহিক স্কেলের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকেন। তাঁদের মধ্যে অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী—উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্যই বিভিন্ন মাত্রায় দেখা যায়। তাঁরা একদিকে যেমন সামাজিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে মেলামেশা করতে পারেন, অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী একাকীত্বও পছন্দ করতে পারেন। অর্থাৎ, উভমুখী ব্যক্তিরা পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের আচরণ পরিবর্তন বা মানিয়ে নিতে সক্ষম হন। তাঁদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল—

  • অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী—উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় থাকা।
  • কখনও সামাজিক পরিবেশে সক্রিয় থাকা, আবার কখনও একাকীত্ব পছন্দ করা।
  • পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহজে মেলামেশা করা, কিন্তু সব সময় সামাজিক পরিবেশে থাকতে না চাওয়া।
  • পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী আচরণ পরিবর্তন করতে পারা।
  • সামাজিকতা ও ব্যক্তিগত নির্জনতার মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা।

প্রাথমিক তথ্য (Preliminaries)

অভীক্ষার্থীর প্রাথমিক তথ্য নিম্নে উল্লেখ করা হল –

  • অভীক্ষার্থীর নাম – Joyita Halder
  • অভীক্ষার্থীর বয়স – 19
  • অভীক্ষার্থীর লিঙ্গ – Female
  • অভীক্ষার্থীর শিক্ষার স্তর – BA, Sem – 1
  • অভীক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা – স্বাভাবিক (Normal)
  • পরীক্ষনের দিন – 18/09/2026
  • পরীক্ষনের সময় – 11.30 AM

প্রয়োজনীয় উপকরণ (Materials Required)

এই ইনভেন্টরিটি পরিচালনার জন্য যে সমস্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ নেওয়া হয়েছে সেগুলি হল –

  • KIEI -এর প্রদত্ত বুকলেট ও প্রশ্নপত্র – Click here
  • KIEI -এর প্রদত্ত উত্তরপত্র
  • স্কোরিং কী (Scoring Key)
  • রাবার, পেন, পেন্সিল ইত্যাদি

অভিক্ষার বর্ণনা (Description of the Test)

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রামানাথ কুণ্ডু (Dr. Ramanath Kundu) K.I.E.I. প্রস্তুত করেন। এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী আচরণের মাত্রা নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপ করা।

এটি ব্যক্তির দুর্বলতা নির্ণয়, নির্বাচন ও নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। ইনভেন্টরিটি ভারতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে নির্মিত হয়েছে।

KIEI প্রশ্নগুচ্ছে মোট 70টি পদ (items) রয়েছে, যেগুলি 5টি ব্লকে বিভক্ত। প্রতিটি পদের সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিক্রিয়া-বিকল্প (response choices) থাকে এবং পরীক্ষার্থীকে তার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করতে হয়।

Table – 1

বিভিন্ন ব্লকে আইটেম এবং উত্তর নির্বাচনের বিকল্পের সংখ্যা (Number of items and response choices in different blocks)

ব্লকপদের সংখ্যা
(No. of Items)
প্রতিক্রিয়া-বিকল্পের সংখ্যা
(No. of Response Choices)
A114
B175
C143
D143
E142

প্রতিটি ব্লকে প্রতিক্রিয়া প্রদানের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা অভীক্ষা পুস্তিকায় দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্লকে পদসংখ্যা ও প্রতিক্রিয়া-বিকল্পের সংখ্যা এক নয়।

অনেক সময় একই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে একই সারিতে থাকা প্রতিক্রিয়া-বিকল্পগুলি নির্বাচন করার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এই ধরনের প্রবণতা বা একঘেয়ে প্রতিক্রিয়া (response set) কমানোর জন্য বিভিন্ন ব্লকে response choices-এর বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে যাতে সেগুলি অন্তর্মুখিতা ও বহির্মুখিতার ক্রমবর্ধমান বা ক্রমহ্রাসমান মাত্রার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। ফলে পরীক্ষার্থী কেবল বিকল্পগুলির অবস্থান দেখে উত্তর নির্বাচন করতে পারে না।

পদ্ধতি (Method)

K.I.E.I. একটি আত্মপ্রয়োগমূলক (Self-administered) ইনভেন্টরি হওয়ায় এর প্রয়োগ পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সহজ ও সুসংগঠিত। প্রথমে অভীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সম্পর্ক (Rapport) স্থাপন করা হয়। এরপর অভীক্ষা-প্রয়োগকারী ব্যক্তি অভীক্ষা পুস্তিকায় দেওয়া নির্দেশগুলি পাঠ করে শোনান এবং প্রয়োজনীয় উদাহরণের সাহায্যে সেগুলি বুঝিয়ে দেন।

অভীক্ষার্থী নির্দেশগুলি সম্পূর্ণভাবে বুঝে প্রস্তুত হলে তাকে উত্তরপত্র ও অভীক্ষা পুস্তিকা দেওয়া হয়। অভীক্ষার্থী সমস্ত অভীক্ষা-পদের উত্তর প্রদান করার পর নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী স্কোরিং করা হয়। সবশেষে KIEI -তে প্রদত্ত নর্ম (Norms) অনুসারে অভীক্ষার্থীর অন্তর্মুখিতা ও বহির্মুখিতার মাত্রা বা স্তর নির্ধারণ করা হয়।

স্কোর নির্ণয়ের পদ্ধতি (Scoring Method)

KIEI -এর প্রতিটি ব্লকের জন্য পৃথক স্কোরিং পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে নির্দিষ্ট টিক (✓) মার্কের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াগুলিকে চিহ্নিত করা হয় এবং শিক্ষার্থীর নির্বাচিত প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্কোর প্রদান করা হয়। এরপর প্রতিটি ব্লকের প্রাপ্ত স্কোর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গণনা করে মোট স্কোর (Total Score) নির্ণয় করা হয়।

পরবর্তীতে প্রাপ্ত C-Score-এর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের স্কোর বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এই স্কোরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী কোন ধরনের ব্যক্তিত্বের অধিকারী এবং তার অন্তর্মুখিতা-বহির্মুখিতার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। স্কোরের শ্রেণিবিভাগ ও তার ভিত্তিতে ব্যক্তিত্বের ধরন টেবিল–২ ও ৩ তে দেখানো হয়েছে।

Table–2: Block-wise Scoring Method

BlockRow
    Block–AFirst Row Total ×1
Second Row Total ×2
Third Row Total ×3
Fourth Row Total ×4
    Block–BFirst Row Total × 1
Second Row Total × 2
Third Row Total × 3
Fourth Row Total × 4
Fifth Row Total × 5
  Block–CFirst Row Total × 1
Second Row Total × 2
Third Row Total × 3
  Block–DFirst Row Total × 1
Second Row Total × 2
Third Row Total × 3
Block–EFirst Row Total × 1
Second Row Total × 2

Table–3: C-Scale Point, Raw Score Range and Classification

C-Scale PointRaw Score RangeClassification
075 বা তার কমচূড়ান্ত বহির্মুখী
176–89বহির্মুখী
290–112মোটামুটি বহির্মুখী
3113–130সামান্য বহির্মুখী
4131–144  মধ্যম অবস্থা (Ambivert)
5145–157
6158–171
7172–185সামান্য অন্তর্মুখী
8186–199মোটামুটি অন্তর্মুখী
9200–228অন্তর্মুখী
10220 ও উপরেচূড়ান্ত অন্তর্মুখী

প্রতিক্রিয়ার স্কোর নির্ধারণ (Scoring of Response)

আমার অভীক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়ার প্রাপ্ত স্কোর হল = ১৫৫. আমার অভীক্ষার্থীর এই প্রাপ্ত স্কোরটি থেকে ফলাফল ও ব্যাখ্যা আলোচনা করা হলো।

ফলাফল (Result)

উপরের ফলাফল থেকে দেখা যায় যে, অভীক্ষার্থীর Raw Score হল 155 ও এই স্কোরটি 145–157 Raw Score Range-এর মধ্যে পড়ে এবং এটি C-Scale Point 5-এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, প্রাপ্ত Raw Score এবং C-Scale Point-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে যে, অভীক্ষার্থী Ambivert শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, অভীক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বে অন্তর্মুখিতা ও বহির্মুখিতা—উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় রয়েছে।

ব্যাখ্যা (Interpretation)

প্রাপ্ত ফলাফল (স্কোর ১৫৫)অনুযায়ী অভীক্ষার্থী 145–157 Raw Score Range এবং C-Scale Point 5-এর অন্তর্ভুক্ত। এই স্কোর অনুযায়ী অভীক্ষার্থী Ambivert শ্রেণিভুক্ত। অর্থাৎ, তাঁর ব্যক্তিত্বে অন্তর্মুখিতা ও বহির্মুখিতা—উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় দেখা যায়।

তিনি সাধারণত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সামাজিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দবোধ করেন, তবে অতিরিক্ত সামাজিক বা অত্যন্ত অন্তর্মুখীও নন। তিনি প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে এবং একাকী সময় কাটাতে—উভয় ক্ষেত্রেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন।

গ্রন্থপঞ্জি | Bibliography

  • Weiten, W., Dunn, D. S., & Hammer, E. Y. (2012). Psychology applied to modern life: Adjustment in the 21st century (10th ed.). Wadsworth, Cengage Learning.
  • Moritsugu, J., Vera, E. M., Jacobs, J. H., & Kennedy, M. (2016). Psychology of adjustment: The search for meaningful balance. SAGE Publications.
  • Bhushan, B., & Bajpai, A. (2018). Psychology of adjustment. Om Publications.
  • Online Sources
  • PDF Study Materials

প্রশ্ন – KIEI-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর – NPI-এর পূর্ণরূপ হল – Kundu Introversion and Extroversion Inventory.

প্রশ্ন – KIEI-এর প্রবর্তক কে?

উত্তর – KIEI-এর প্রবর্তক হলেন রমানাথ কুন্ডু (Dr. Ramanath Kundu)।

Latest Education Articles

Leave a Comment

✅ Copied with source!